শিরোনাম

শিক্ষিত সমাজ জাতীয় সম্পদ কিন্তু রূপসী পাড়ায় অভিশাপঃ

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, মে ২৮, ২০২১ ৬:০৮:৫৬ অপরাহ্ণ
শিক্ষিত সমাজ জাতীয় সম্পদ কিন্তু রূপসী পাড়ায় অভিশাপঃ
শিক্ষিত সমাজ জাতীয় সম্পদ কিন্তু রূপসী পাড়ায় অভিশাপঃ

রুপসী পাড়ায় কিছু লোক, যারা নেতৃত্ব স্থানে আছে ও সমাজ পরিচালনা করছে তাদের কাছে শিক্ষিত ছেলেগুলো শত্রু, আপদ, অভিশাপ মনে করছে।

শিক্ষিত ব্যক্তিদের থেকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আইডিয়া বের হচ্ছে যা সমাজপ্রতিদের চোখে ভালো দেখায় না, তাই তারা তাদের মেনে নিতে পারছে না। সারাক্ষণ কিভাবে শিক্ষিত ছেলেগুলোকে হেয় প্রতিপন্ন করা যায় তার জন্য যত ধরনের প্রপাগাণ্ডা করা, দলাদলি, গুরুপিং, বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা অপবাদ দেওয়া, বদনামী, সিনিয়র নেতাদের কাছে মিথ্যা বলে হয়রানি, চায়ের দোকানে রাজনীতি, মিথ্যা গুজব, এর কথা ওর কাছে বলে ঝগড়ার সৃষ্টি ইত্যাদি করা তাদের নিত্য নতুন কাজ।

রুপসী পাড়ার নেতারা মনে করে কিভাবে তাদের দমানো যায়। না হয় কখন জানি ক্ষমতায় ভাগ বসায়। নাকি খাবলা মেরে ক্ষমতা কেড়ে নেয়। সব সময় একটা আতংকের মধ্যে থাকে। তাই যত ধরনের প্রপাগাণ্ডা আছে করতে থাকে যাতে শিক্ষিত ছেলেরা ক্ষমতা থেকে দূরে থাকে। এটা তাদের একটা কৌশল মাত্র । শিক্ষিত ছেলেরা কিছু একটা বললেই তার বিরোধিতা করে, হউক সেটা ভালো অথবা খারাপ। শিক্ষিতরা নাকি সিন্ডিকেট।

আবার এমন একটা ভাব নেয় যেন তাদের ছাড়া সমাজ চলবেই না। শিক্ষিত হওয়ার কোন দরকার নাই। তারাই সমাজের কর্তৃত্তে আছে এবং থাকবে। সমাজ তাদের ছাড়া অসহায়, অচল। তারা মনে করে, মানুষ শিক্ষিত হলে তাদের কদর কমে যাবে, এক সময় না এক সময় ক্ষমতা শিক্ষিত ব্যক্তিদের হাতে চলে যাবে। তাই চিল্লাই ফাল্লাইয়া যে কয় দিন টিকে থাকা যায়, এটাই তাদের উদ্দেশ্য। না আপনাদের সম্মান কমবে না।

যথাযোগ্য মর্যাদা আপনাদের দেওয়া হবে। বাবারে, ভাইরে, ক্ষমতা আর টাকা চিরকাল একজনের থাকে না। হাত বদল হবেই। এটা ধরে রাখার জিনিস না। এগুলো ক্ষণস্থায়ী। আজ আছে কাল নাই। আজ একজনের হাতে কাল অন্যজনের। এগুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করা কি দরকার? সমাজকে পরিবর্তন করতে চাইলে শিক্ষিতদের সামনে সুযোগ করে দিন।

দেখুন তারা কি করতে পারে। অযথা ঠেলাঠেলি করে লাভ কি? শিক্ষিত ছেলেদের নিয়ে অপরাজনীতি করবেন না। মনে রাখবেন এরা দেশের সম্পদ। এরা আপনাদের ছেলে, দেশ গড়ার কারিগর। এদের সিন্ডিকেট বলবেন না। এরা সিন্ডিকেট না এরা সমাজ গড়ার কারিগর। আপনাদের সহযোগী, আপনারাও তাদের সহযোগিতা করুন।

একসাথে মিলেমিশে কাজ করুন, দেখবেন সমাজ পরিবর্তন হবেই ইনশাল্লাহ। আজ যারা এমন অদ্ভুত আচারন করছেন, মনে রাখবেন একদিন আপনার সন্তানরাও শিক্ষিত হবে। সেদিন কি আপনি এমন অশুভ আচরণ করতে পারবেন? আপনার সন্তানরাও একদিন সমাজে নেতৃত্ব দিবে সেদিন আপনি কি পারবেন তাদের অস্বীকার করতে?

জানি পারবেন না, কারণ সে আপনার সন্তান। যাদি আপনার সন্তানের সাথে অশুভ আচারন করতে না পারেন, তবে আজ কেন এমন অদ্ভুত আচারন করছেন? এগুলো বাদ দিয়ে আসুন একসাথে কাজ করি, সমাজের উন্নয়ন করি। শিক্ষিত ছেলেরা আপনাদের যথেষ্ট সম্মান করে। এটা তাদের দূর্বলতা নয়। শিক্ষিতরা জানে কিভাবে কি করতে হয়।

সমাজ পরিবর্তন করতে হলে কি করা প্রয়োজন। আজ হয়তো তারা সংখ্যায় কম, তাই তাদের যা ইচ্ছে বলে যাচ্ছেন কিন্তু একদিন শিক্ষিতদের সংখ্যা অনেক বেশি হবে সেদিন হয়তো সমাজ এমন থাকবে না। শিক্ষিতদের প্রতি আমার দাবি, তোমরা মুরুব্বি ও বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি যথাযোগয় সম্মান প্রদর্শন করবে, তোমরা আজ যেসব বাধার সম্মুখীন হচ্ছো, অপমানিত হচ্ছো, মিথ্যা অপবাদের সম্মুখীন হচ্ছো, তোমাদের মত আমিও নিয়োমিত বিভিন্ন কাজে অপমানিত, লাঞ্চিত হচ্ছি। কিন্তু কিছু করার নাই। ভালো কিছু করতে হলে এগুলোকে পাশ কাটিয়ে উঠতে হবে।

হয়তো তোমাদের কারণে পরবর্তী প্রজন্ম ভালো থাকবে। তাদের এই জ্বালা সহ্য করতে হবে না যা তোমরা আজ সহ্য করতেছো। মনে রাখতে হবে, আজ যারা এমন অদ্ভুত আচারন তোমাদের সাথে করছে তারা তোমাদের মুরুব্বি। কোন ধরনের অশুভ আচার-আচরণ তাদের সাথে করা যাবে না।

আমরা একসাথে কাজ করতে চাই, শিক্ষিতদের দূরে ঠেলে দিবেন না। পাশে থাকুন, পাশে রাখুন, একসাথে কাজ করার সুযোগ দিন, কথা দিচ্ছি সমাজে ভালো কিছু করে দেখাবো। শিক্ষার আলো চারদিকে ছড়িয়ে দিবো।

হিংসা বিদ্বেষ ভুলে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবো ইনশাল্লাহ। কার উদ্দেশ্য করে কিছু লিখিনি। রূপসী পাড়ায় রাজনীতির মাঠে যা চলতেছে, তার কিছু ছায়ালিপি তুলে ধরলাম। মনের কিছু দুঃখ, কষ্ট শেয়ার করলাম। কেই নেগেটিভ নিবেন না দয়া করে। ভুল হলে মাফ করে দিবেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us