শিরোনাম

সালথায় খাল খননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ধ্বংস হচ্ছে ফসলী জমি

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, মে ৩১, ২০২১ ৩:৫৪:০৫ অপরাহ্ণ
সালথায় খাল খননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ধ্বংস হচ্ছে ফসলী জমি
সালথায় খাল খননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ধ্বংস হচ্ছে ফসলী জমি
জাকির হোসেন, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: সালথায় খাল খননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ধ্বংস হচ্ছে ফসলী জমি।
ফরিদপুর সালথায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিনে শুরু হওয়া ২টি খাল পুনঃখননে অনিয়মসহ এসকেবেটর দিয়ে মাটি ফেলে ফসল নষ্ট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের সিংহপ্রতাপ এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়িদিয়া নদী থেকে বাইনাখালি পর্যন্ত ১ হাজার ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট রাজাবাড়ি খাল ও মোড়হাট এলাকা দিয়ে বয়ে যওয়া কুমার নদী থেকে দীঘের বিল পর্যন্ত ১ হাজার ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্য কেষ্টখালি খালের খননকাজ চলছে।
এ খননকাজ বাস্তবায়ন করছেন কুমিল্লার ঝাউতলা এলাকায় অবস্থিত মেসার্স সারা এন্টারপ্রাইজ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাল খনন করে মাটি ফেলানো হচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের ফসলি জমিতে। এতে সোনলি আশ নামে খ্যাত জমিতে থাকা পাটের ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে পাটচাষীরা। জানা গেছে, খরা মৌসুমে খালে পানি সংরক্ষণ ও কৃষি জমিতে পানি সেচের জন্য ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সমন্বিত পানি ব্যবস্থা প্রকল্প’-এর অধিনে পাউবো এর উদ্যোগে এ দুটি খালের পুনঃখনন কাজ শুরু হয় গত ২৯ এপ্রিল থেকে।
খাল দুটি পুনঃখনন কাজের জন্য ৬৩ লাখ ৬২ হাজার ৪০২ টাকায় বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৪১ ভাগ ছাড়ে কাজটি নিয়েছেন ৩৭ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৮ টাকায়। এ খনন কাজ আগামি ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা। তবে গতকাল ৩০ মে পর্যন্ত ওই কাজের ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছেন এ কাজের তদারকিতে নিয়োজিত পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, রাজাখালি ও কেষ্টখালি খাল খনন কাজ করা হচ্ছে দুটি খনন যন্ত্র দিয়ে। কাজের সাইডে প্রকল্পের ঠিকাদার বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো তদারকি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দেখা যায়নি।
কেষ্টখালি ও রাজাবাড়ি খাল খননে উপরে প্রস্থ ৪৪ থেকে ৪৫ ফিট করে কাটার কথা থাকলেও বাস্তবে ২৫ থেকে ৩৫ ফিট করে কাটা হচ্ছে। খালের তলায় প্রস্থ ১৩ থেকে ১৬ ফিট করে কাটার কথা থাকলেও ১০ থেকে ১২ ফিট করে কাটা হচ্ছে। খাল দুটির গভীরতা সাড়ে ৩ ফিট থেকে ৮ফিট করে খনন করার কথা থাকলেও বাস্তবে গভীর করা হচ্ছে ২ থেকে ৫ ফিট।
উভয় খালের দুই পাড়ে বসবাসরত বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়সারা গোছের কাজ করে খালের মাটি ফসলি জমিতে ফেলানোয় পাট, বেগুন-মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। খালের পাড় অত্যন্ত খাড়া করে কাটা হয়েছে। খননের শুরুতেই খালের পাড়ে এলোমেলো করে মাটি রাখা হয়েছে। তাতে সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি ধসে আবার খাল ভরে যাবে। অভিযোগ রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) লোকজন সঠিক সময়ে তা পরিদর্শন করছেন না। গট্টি ইউনিয়নের কাউলিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা কৃষক এসকেন মাতুব্বর (৩৯) কেষ্টখালী খালের পাড়ে কৃষকদের ২০ বিঘা জমি রয়েছে।
এর মধ্যে ১০ বিঘা জমির পাট খালের কাটা মাটির কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। মোড়হাট গ্রামের কৃষক লাল মিয়া বলেন, যেভাবে খাল কাটছে তাতে আমাদের কোন লাভ হবে না। অথচ খালের দুই পাড়ে মাটি রাখায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। মেম্বার গট্টি গ্রামের বাসিন্দা মো. ওহিদুজ্জামান (৩১) বলেন, তার দলিলকৃত জমির ফসল কেটে কেষ্টখালী খাল খননের পায়তারা করছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে কেষ্টখালী খালের মাটি রাখার জন্য ওই এলাকার জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে। একই অভিযোগ এসেছে রাজাবাড়ী খাল খনন এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে। সিংহপ্রতাপ গ্রামের অসহায় কৃষক আব্দুর রহিম (৪৩) বলেন, রাজাবাড়ী খালের মাটির কারনে তার ১৪ কাটা জমির মরিচ গাছ চাপা পড়ে গেছে।
তিনি বলেন, ওই খালের মাটি রাখার জন্য ওই এলাকার অন্তত আট বিঘা জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে। খাল দুটির খনন কাজ বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার জাকির হোসেন বলেন, খালের গভীরতা শিডিউল অনুযায়ী শতভাগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে খালের পাশের কিছু জায়গায় ব্যক্তি মালিকানাধীন হওয়ায় শিডিউল অনুযায়ী চওড়া করা যায়নি। কোন কোন জায়গায় কিছু কম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, এ কাজ তদারকি করে ওয়াটার বোর্ড টাক্স ফোর্স।
আমি একশ ভাগ কাজ করলেও তারা ৯৫ ভাগের বেশি বিল দেয় না। কম টাকায় কাজ নেওয়ার বিষয়ে ঠিকাদার জাকির হোসেন বলেন, আমি ব্যবসার দিকে তাকিয়ে কাজ নেইনি, জেদ করে এবং অন্যকে নিতে দেব না এই মনোভাব নিয়ে কাজ নিয়েছি। খালের মাটি রাখায় ফসলের ক্ষতি হওয়ার ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই।
কেননা এ খাতে কোন টাকা বরাদ্দ নেই। তাই আমার করার কিছুই নেই। পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অতনু প্রামাণিক বলেন, পাউবো কাজের তদারকি করছে না এ অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি নিজে, নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদসহ পাউবোর কর্মকর্তারা কাজের তদারকি করছেন। তিনি বলেন, আপাত দৃষ্টিতে খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা সঠিক ভাবে করা হচ্ছে বলে তাদের মনে হয়েছে। তবে বিল দেওয়ার আগে শিডিউল অনুযায়ী কাজ বুঝে নেওয়া হবে। কাজ সিডিউল অনুযায়ী না হলে বিল দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, খালের পাড় বেশি খাড়া ভাবে কাটা হয়েছে এটি তার নিজের কাছেও মনে হয়েছে। তিনি বলেন, খালের মাটি পাশের জমিতেই রাখাতে হবে। তবে মাটির পরিমান কম বলে আমরা ইউএনকে দিয়ে জমি ইজারা নেওয়ার উদ্যোগ নেইনি।
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us