শিরোনাম

সালথায় সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, জানুয়ারি ১০, ২০২২ ৭:২৭:১৪ অপরাহ্ণ
সালথায় সহকারী শিক্ষকের অনিয়মের অভিযোগ
সালথায় সহকারী শিক্ষকের অনিয়মের অভিযোগ

ফরিদপুরের সালথায় সিংহপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহেবুল ইসলাম (সায়েম) এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করেছে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তার।

নাজমা বেগম রবিবার (৯ জানুয়ারী) সিংহপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাহেবুল ইসলাম (সায়েম) এর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও বিভিন্ন অনিয়েমের প্রসঙ্গ এনে সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

কোচিং বাণিজ্য

অত্র বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ সাহেবুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে নির্ধারিত শ্রেণিতে পাঠদান না করে বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন সময়ে শ্রেণিকক্ষের মধ্যেই কোচিং বাণিজ্যের কথা উল্লেখ করেন। যেখানে কোচিং বা প্রাইভেট না পড়লে ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়ার ভয়-ভীতিও প্রদর্শন করার কথাও বলেন।

টাকা আত্মসাৎ

এছাড়াও শিক্ষা অফিসে কাজ আছে বলে প্রায় সে বিদ্যালয় হতে বের হয়ে যাওয়া, জোর করে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যায়ের হিসাবের খাতা ছিঁড়ে ফেলা, উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ে না এসেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগও করেন।

পূর্বে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে দিয়ে টাকা উত্তোলন অভিযোগ এনে তিনি বলেন, সাহেবুল ইসলাম (সায়েম) ১ম-৫ম শ্রেণিতে পাঠদান করে না এবং বিদ্যালয়ের কোন কাজে সহযোগীতাও করে না। এছাড়াও তাকে হুমকি দিয়ে বিদ্যালয়ের ফান্ডের টাকা উত্তোলন করতে না দিয়ে পূর্বে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাজিয়া খানমকে দিয়ে উত্তোলন করে নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোওয়ার করে নেয়।

ভর্তি/রেজিস্ট্রেশন/কোচিং ফি/সেশন ফি/সনদপত্র/মার্কশীট ইত্যাদি বিতরণ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়

উক্ত সাহেবুল ইসলাম (সায়েম) সিন্ডিকেট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে ৬ষ্ঠ- ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিকট হতে নানা অযুহাতে (ভর্তি/রেজিস্ট্রেশন/কোচিং ফি/সেশন ফি/সনদপত্র/মার্কশীট ইত্যাদি বিতরণ) বিভিন্ন সময়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ উত্তোলন ও নিজেদের ইচ্ছামতো রেজুলেশন তৈরী করে। এছাড়া বিদ্যালয়ে উন্নয়নমূলক বাবদ হতে সে অর্থ আসে সেখান থেকেও অর্থ দাবী করে কাজ করতে বাঁধা সৃষ্টি করে। নিষেধ করলে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিয়ে সে দেখে নেওয়ার কথা বলেছেন বলে নাজমা বেগম অভিযোগ করেন।

পূর্বের কর্মস্থল হতে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন, পুলিশ কর্তৃক আটক, স্থানীয় ভাবে মিমাংসা পরবর্তীতে সাবেক রুপ ধারণ

এসময় তিনি ২০১৪ সালের একটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন তার পূর্বের কর্মস্থল নটখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগে তাকে সালথা থানা পুলিশ আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে অভিভাবকগন স্থানীয় ভাবে মিমাংশা করে তাকে কারামুক্ত করে এবং তাকে প্রশাসনিক তাবে অত্র বিদ্যালয়ে বদলী করা হয়। কাজে বাঁধা দিলে হুমকি ধামকি অত্র বিদ্যালয়ে আসার পরেও তার এহেন কর্মকান্ডের জন্য জৈনক অভিভাবক তার বিরুদ্ধে একই জাতীয় অভিযোগ আনলে সে বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়। আমি তার এসকল কাজে বাঁধা দিতে গেলে সে আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয় এবং বলে আমাকে অন্যত্র সরিয়ে দিবে বলে প্রকাশ করেন।

প্রধান শিক্ষক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে কেলাঞ্চিত

গত ১৬ই ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তিতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পনকালে তার সামনে উপস্থাপক প্রধান শিক্ষক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মোঃ মিজানুর রহমানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তাকে দালাল বলে কটূক্তি করার কথা উল্লেখ করেছেন। যেখানে একজন প্রধান শিক্ষকের প্রতি হীন মনের পরিচয় ফুটে উঠেছে।

মাদক রেখে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভীতি প্রদর্শণ

তিনি আরো বলেন, সহকারি শিক্ষক সাহেবুল আমাকে মাঝে মধ্যে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে বলে আমার বাসায় সে মাদক রেখে ফাসিয়ে দিবে বলে জানায়। তার সাথে ঝামেলা করলে তাকে লাঞ্চিত করবে বলে ভয় দেখায়। বিষয়টি আমি অনেকদিন। যাবত স্থানীয় গন্যমান্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে আসছিলাম। আমার স্বামী জীবিত নাই, এছাড়াও আমার কোন ছেলে সন্তান না থাকায় আমি এতদিন ভয়েকারও কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে সাহস পাইনি। এমতবস্থায় সাহেবুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তাইফুন্নাহার, কাজী খালিদ হোসেন ও তার স্ত্রী গুলশানারা আক্তার মিলে বিদ্যালয়েরসকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে জিম্মী করে রাখছে। তাদের এহেন কর্মকান্ডে আমার বিদ্যালয়েরস্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় মারাত্মক বিঘ সৃষ্টি হচ্ছে। এসময় তিনি মামলার এজাহারের কপি, বিগত সময়ের অভিযোগের কপি ও শিক্ষক ও রেজুলেশনের কপি সংযুক্ত করেন।

নাজমা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, আমি একজন অসহায় মহিলা। আমার স্বামী এবং ছেলে সন্তান নাই। তাই মান সম্মানের ভয়ে অনেক সময় তাদের এহেন অন্যায় কার্যকলাপ সহ্য করেছি। সাহেবুল ইসলাম ও তাইফুন্নাহার এবং কাজী খালিদ হোসেন ও গুলশানারা আক্তার স্বামী-স্ত্রী। তারা মোট চারজন মিলে একটা সিন্ডিকেট তৈরী করে একচ্ছত্র আদিপত্য বিস্তার করে আসছে। অত্র বিদ্যালয়ে মোট ৯ জন শিক্ষকের মধ্যে তারা স্বামী-স্ত্রীই চারজন। তারা একত্রিত হয়ে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে জিম্মী করে রাখছে। তিনি আরো বলেন, কোচিং বাণিজ্যের সুবিধার্থে ১ম-৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস করায় না।

এ বিষয়ে সাহেবুল ইসলাম (সায়েম) এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমি একজন সহকারী শিক্ষক, আমার কোনো আর্থিক ক্ষমতা নাই। এর সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই। এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে অভিযোগ করলেও করতে পারে। যার কোনো সত্যতা নাই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ তাছলিমা আকতার বলেন, আমি নাজমা আক্তারও সাহেবুল ইসলাম, দুই পক্ষেই অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us