শিরোনাম

সিগন্যাল না দাঁড়িয়ে ইউএনওর নৌকায় ধাক্কা!

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২০ ১১:০৯:৪৩ অপরাহ্ণ
সিগন্যাল না দাঁড়িয়ে ইউএনওর নৌকায় ধাক্কা!
সিগন্যাল না দাঁড়িয়ে ইউএনওর নৌকায় ধাক্কা!

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীতে অবৈধ বালুবোঝাই বাল্কহেডকে (ট্রলার) দাঁড়ানোর সিগন্যাল দেওয়ায় ইউএনও-এসিল্যান্ডের নৌকায় ধাক্কা দিয়েছে বালু কারবারিরা। এতে ইউএনওদের বহকারী নৌকাটি ক্ষতিগ্রস্ত ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা-ই মাহমুদ মারাত্মক আহত হন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটি কাপাসিয়া (বাদামের চর) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে আটক করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী লুতফুল হাসান। পরে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে পুলিশ আটকদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

এ ঘটনায় আটকরা হলেন- কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী থানার রমনা খামার চিরমারী গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে নুর আলম (৩৫), একই উপজেলার সোনারীপাড়া গ্রামের জব্বার মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর (৩৫), আব্দুস সামাদের ছেলে রফিকুল (৫০), সামছুল হকের ছেলে সাহেদুল হক (৩০) ও পুটিমারী গ্রামের উজির হোসেনের ছেলে মাইনুল ইসলাম (৪০)। পরে আটকদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের বাদামের চরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চারা বিতরণ করতে যায় ইউনএও, এসিল্যান্ড ও কৃষি কর্মকর্তা। বন্যাদূর্গতদের কমিউনিটি বীজতলার চারা বিতরণ শেষে ফেরার পথে তিস্তার মাঝ নদীতে বালুবোঝাই অবৈধ বাল্কহেড (ট্রলার) দেখতে পায়। এসময় বালু বহনকারী বাল্কহেডটিকে দাঁড়ানোর সিগন্যাল দেন ইউএনও কাজী লুতফুল হাসান, এসিল্যান্ড শাকিল আহাম্মেদ ও কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা-ই মাহমুদ।

কিন্তু তাদের সিগন্যাল পাওয়ার পর আরো বেপোয়ারা গতিতে বাল্কহেডের ড্রাইভার না থেমে ইউএনও-এসিল্যান্ডের নৌকার মাঝ বরাবর স্ব জোরে ধাক্কা দেয়। এতে মাঝ নদীতেই নৌকাটি প্রচণ্ড ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিস্ময়করভাবে বেঁচে যান যাত্রীরা। এতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা-ই মাহমুদ ঘাড় ও ডান হাতে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এরপর সাহসিকতার সঙ্গে ইউএনও, এসিল্যান্ড ও কৃষি কর্মকর্তা অবৈধ বালুবোঝাই বাল্কহেডটিকে আটক করে।

পরে ট্রলারের দুই চালক ও তিনজন বালু উত্তোলনের শ্রমিকসহ পাঁচজনকে আটক করেন। ঘটনার পর ইউএনও, এসিল্যান্ড ও কৃষি কর্মকর্তাকে হত্যা চেষ্টার মামলা করার করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে আটকরা দিনমজুর হওয়ায় মানবিকতায় তাঁদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ডাদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহাম্মেদ নৌকার দুই চালক রফিকুল (৫০) ও সাহেদুলকে (৩০) পনেরো দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। এছাড়াও নুর আলম (৩৫), জাহাঙ্গীর (৩৫) ও মাইনুল ইসলামকে (৪০) দশ দিনের করে কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহাম্মেদ বলেন, আল্লাহর রহমতে আমরা অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী লুতফুল হাসান বলেন, গতকাল দুপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের চারা বিতরণ শেষে ফেরার পথে তিস্তার মাঝ নদীতে অবৈধ বালু বোঝাই বাল্কহেডকে দাঁড়াতে বলি। তারা না দাঁড়িয়ে বেপরোয়া গতিতে আমাদের বহনকারী নৌকাকে ধাক্কা দেয়। এতে নৌকা ও কৃষি অফিসার মারাত্মক আহত হন। পরে তাদের আটক করে থানায় সোপর্দ করলে আজ রবিবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর