শিরোনাম

স্ত্রীর বক্র আচরণ গিলে ফেলতে পারাই ‘আসল পুরুষ’-এর বৈশিষ্ট্য।

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, নভেম্বর ৭, ২০২২ ১২:১১:০৬ পূর্বাহ্ণ

১) এই ভদ্রমানুষটা নারী-অধিকার বিষয়ে এক লাইনও পড়েছেন কি না, সন্দেহ আছে। এমনকি স্ত্রীকে সম্মান দেয়া সম্পর্কে একটি আয়াত বা হাদীস বলতে পারবেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ আছে।

২) জানুন বা না জানুন, পৌরুষদীপ্ত কাজটা কিন্তু ঠিকই করে চলছেন। স্ত্রীকে সম্মান দেয়া, বিবিকে পরম আদর আর একান্ত যতনে রাখা, পুরুষের চিরন্তন ফিতরাহ। সৃষ্টিগত স্বভাব। জন্মগত প্রবৃত্তি।

৩) কোনও পুরুষ ব্যতিক্রমী আচরণ দেখলে বুঝতে হবে, হয় সে ভুলভাবে বেড়ে উঠেছে, ভুল শিক্ষা পেয়েছে, নয়তো সঙ্গীনির আচরণ তাকে বিগড়ে দিয়েছে।

৪) যতকিছুই হোক, পুরুষ হবে পুরুষের মতো।
সহনশীল-হালীম। দায়িত্ববান-কাউয়াম। ক্ষমাপরায়ণ-গাফূর।
উন্মুক্তবক্ষ।
দৃঢ়সিদ্ধান্তের অধিকারী-উলুল আযম।

৫) নারীর দুর্ব্যবহার যে পুরুষকে তার পৌরুষ থেকে বিচ্যুত করে, বলতে হবে সে পুরষের পৌরুষ এখনো পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়নি।
একজন পুরুষের বহন ও ধারণক্ষমতা নারীর চেয়ে কয়েকগুণ (কমপক্ষে চারগুণ) বেশি বলেই তার জন্য চার পর্যন্ত সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

৬) যে পুরুষ বিবির জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে যায়, বুঝতে হবে, তার মধ্যে পৌরুষের চারভাগের একভাগও বিদ্যমান নেই।
সত্যিকারের পুরুষ হওয়া আসলে অনেক সাধনার ব্যাপার।

৭) যাই হোক,
স্ত্রীর দেয়া কষ্ট ক্ষমা করতে পারা,
স্ত্রীর দুর্ব্যবহার হজম করতে পারা, স্ত্রীর অসহিষ্ণুতা সহ্য করতে পারা, স্ত্রীর বক্র আচরণ গিলে ফেলতে পারাই
‘আসল পুরুষ’-এর বৈশিষ্ট্য।

৮) স্ত্রী ভাল হলে তো আলহামদুলিল্লাহ।
ব্যতিক্রম হলে, ‍পুরুষের কর্তব্য সর্বোচ্চ ছাড় ও ক্ষমার পথে হাঁটা।

শরীয়তের সীমায় থেকে, একাই চারজনের ক্ষমা-উদারতা দেখানোর পর, চূড়ান্ত পর্যায়ের অপারগ হয়ে গেলে ভিন্ন কথা।

৯) তারপরও বলব,
পুরুষ হবে ক্ষমাশীল। চূড়ান্ত পর্যায়ের ধৈর্যশীল। পরম সহনশীল।
রাব্বে কারীম তাওফীক দান করুন। অনেক ভুলত্রুটি আছে, সীমাবদ্ধতা আছে, এসব থেকে নিজেকে সংশোধন করে, “(সবদিক দিয়ে)” নবীজি সা.-এর মতো স্বামী হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন।

– শাইখ আতিক উল্লাহ হাফিজাহুল্লাহ

Spread the love
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us