শিরোনাম

হোয়াটসঅ্যাপের কল্যাণে ৪০ বছর পর পরিবার পেলেন ৯৩ বছরের বৃদ্ধা!

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, জুন ২২, ২০২০ ৭:০০:৩৮ অপরাহ্ণ
হোয়াটসঅ্যাপের কল্যাণে ৪০ বছর পর পরিবার পেলেন ৯৩ বছরের বৃদ্ধা!
হোয়াটসঅ্যাপের কল্যাণে ৪০ বছর পর পরিবার পেলেন ৯৩ বছরের বৃদ্ধা!

মৌমাছির ঝাঁকের তাড়া খেয়ে মহারাষ্ট্র থেকে পালিয়ে মধ্যপ্রদেশের ছোট্ট গ্রামটিতে এসে পৌঁছেছিলেন পঞ্চুভাই নামের ওই বৃদ্ধা। আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে তিনি যখন গ্রাম ছেড়েছিলেন তখন তার বয়স ছিল ৫৩ বছর। পরিবারের থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে একেবারে অচেনা-অজানা পরিবেশে ওই নতুন গ্রামবাসীদের সঙ্গেই তিনি থাকতে শুরু করেছিলেন। প্রায় ৪০ বছর ধরে সেখানেই ছিলেন তিনি।

পঞ্চুভাইয়ের মাতৃভাষা মারাঠি। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের ওই গ্রামে কেউই তার ভাষা বোঝেন না। তবুও ইশারায় কথা বলে কেমন যেন আপন হয়ে উঠেছিল সেই গ্রামটি ওই বৃদ্ধার কাছে।

কিন্তু গত সপ্তাহে প্রায় ৪০ বছর পর মহারাষ্ট্রে থাকা নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফের এক হতে পেরেছেন বৃদ্ধা। যদিও তাকে তার নিজের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে গিয়ে গ্রামবাসীদের অনেকেরই চোখ ছিল জলে ভরপুর।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে পরিবারের সঙ্গে পঞ্চুভাইয়ের এতদিন পর মিলনের সেই দৃশ্য। এখন তার বয়স ৯৩। দামো জেলার কোটা টালা গ্রাম থেকে চোখে জল নিয়ে নিজের পরিবারের কাছে ফিরে গেলেন প্রিয় ‘মওসি’। লাল গাড়িতে করে নিজের জায়গায় ফিরে গেলেন বৃদ্ধা। স্থানীয় বাসিন্দাদের মন কাঁদিয়ে ফিরে গেলেন তিনি।

নাগপুর থেকে বৃদ্ধার প্রতিবেশীরা এসেছিলেন তাকে নিতে। এসেছিলেন পৃথ্বীকুমার শিঙ্গলে, বৃদ্ধার নাতি। করোনাভাইরাসের জেরে হওয়া লকডাউন কিছুটা শিথিল হতেই বৃদ্ধাকে নিতে এসেছিলেন তারা। গত মাসে নূর খানের বড় ছেলের সঙ্গে বসে মরাঠিতে নিজের পরিবার ও বাড়ির পুরনো গল্প করেছিলেন পঞ্চুভাই। নূরই ৪০ বছর আগে বৃদ্ধাকে রক্ষা করেছিলেন মৌমাছির পালের শিকার থেকে। আশ্রয় দিয়েছিলেন তার বাড়িতে। তার পর থেকে বৃদ্ধা তার বাড়িরই সদস্য হয়ে গিয়েছিলেন।

২০০৭ সালে নূর মারা যান। কিন্তু তার পরেও পঞ্চুভাইকে তারা বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেননি। তিনি এখনও তাদের বাড়িরই সদস্য। বাড়িতে নূরের মায়ের মতোই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। গত মাসে নূরের ছেলে ইসরার মোবাইলে সার্ফ করে পঞ্চুভাইয়ের পরিবারের খোঁজ চালায়। তার গ্রামের নাম, আগের কথা, আগের সব কিছু শুনে সেগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন ইসরার। খঞ্জনামা এবং পথরট শুনে সেগুলো গুগলে লিখে সেখানকার এক বাসিন্দার সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইসরার। পঞ্চুভাইয়ের ছবি হোয়াটসঅ্যাপ করার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার আসল পরিবারের খোঁজ পাওয়া যায়।

ইসরাররা তাকে ফিরিয়ে দিতে চায়নি। কিন্তু বৃদ্ধার আসল পরিবারও তার সঙ্গে থাকতে চান। তার পরেই আসল নাতি দিদাকে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করে। লাল গাড়িতে করে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। নতুন শাড়ি পরে ফিরে যান পঞ্চুভাই। ৪০ বছর আগের ফেলে আসা স্মৃতি সারা রাস্তা ধরে মনের মধ্যে ঘুরপাক খায় বৃদ্ধার। চোখ এখন ঝাপসা। তাও সব কিছু কেমন যেন নতুন-চকচকে মনে হয়।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর