শিরোনাম

৬ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনার মীমাংসা করলেন ইউপি সদস্য

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, মার্চ ১৪, ২০২১ ১০:২৪:৩৪ অপরাহ্ণ
৬ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনার মীমাংসা করলেন ইউপি সদস্য
৬ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনার মীমাংসা করলেন ইউপি সদস্য

মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ৬ বছরের এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৫০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই বৃদ্ধ উপজেলার নন্দনকোনা গ্রামের মৃত ইসমাঈল খানের লম্পট ছেলে ফিরোজ খান। ৮ মার্চ সোমবার দুপুরে নন্দনকোনা গ্রামে ধর্ষণের এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার চার দিন পর গত ১২ মার্চ শুক্রবার স্থানীয় পুরুষ ও মহিলা ইউপি সদস্যের মধ্যস্থতায় ঘরোয়া সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফিরোজ খান এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ তারিখ সোমবার দুপুর অনুমান আড়াইটার দিকে লম্পট ফিরোজ খান পার্শবর্তী বাড়ীর ওই শিশুকে সাথে নিয়ে ঘাস কাটতে যাবে বলে বাড়ী থেকে বের হয়। বাড়ী ফিরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পরে এবং ঘটনার বিষয় পরিবারের লোকজনের কাছে খুলে বলে। ঘটনাটি স্থানীয় ভাবে জানাজানি হলে কোলা ২ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ কপাশের হোসেন ও ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্যা মোসা: জাকিয়া বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় বেশ কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে ঘরোয়া ভাবে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করেন! জানা যায়, অভিযুক্ত ফিরোজ খান ইউপি সদস্যা মোসা: জাকিয়ার সম্পর্কে ভাসুরের ছেলে এবং ইউপি সদস্যার বড় কন্যার সম্পর্কে ভাসুর। থানা পুলিশকে না জানিয়ে ধর্ষণের মত যঘন্নতম অপরাধ ঘরোয়া সালিশে মীমাংসা করায় স্থানীয় ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী কন্যা শিশুর পরিবারের কাছে ঘটনার বিষয় জানতে চাওয়া হলে তারা এ নিয়ে মুখ খুলতে সম্মত হননি! স্থানীয় বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইউপি সদস্য কপাশের হোসেন কোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টাকা পয়সার মালিক হওয়ার কারণে বিষয়টি নিয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হয় না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, কপাশের মেম্বার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় বিচার সালিশ করেন। কপাশের মেম্বার দাবী করেন তার হাত নাকি অনেক লম্বা! নন্দনকোনা গ্রামের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কপাশের মেম্বার মোবাইলে বললো আমি এবং জাকিয়া সহ লোকজন নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি। এই কথার রেকর্ড আমার কাছে আছে। কোলা ২ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ কপাশের হোসেন আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটা আইনবিষয় এ ব্যপারে আমার কোন হস্তক্ষেপ নাই। কোলা ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্যা মোসা: জাকিয়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি কিছু করি নাই। যা করছে কপাশের মেম্বার করছে। সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ এস,এম জালাল উদ্দিন বলেন, এ ব্যাপারে আমার জানা নেই। বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। আর কেউ লিখিত অভিযোগও করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নারী ঘটিত কোন বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর

Contact Us