শিরোনাম

ধর্ষণে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে ফের উত্তাল ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে উলঙ্গ করে নির্যাতন, সিলেট এমসি কলেজ হোস্টেলে নারী ধর্ষণসহ সারাদেশে নারী-শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের সাথে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসির দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে ২য় দিনের মতো প্রতিবাদ, বিক্ষোভ সমাবেশ ও রাস্তা অবরোধ করেছে ঠাকুরগাঁয়ের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) বেলা ১১ টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে ঠাকুরগাওয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ধর্ষকদের শাস্তি চেয়ে বলেন, এই দেশে একের পর এক নারী নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যার মতো বর্বর ঘটনা ঘটেই চলেছে। আমাদের মা-বোনদের মতো নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা কোথায়? এই দেশে বিচারহীনতা ধর্ষক ও খুনীদের বেপরোয়া করে তুলছে। আমরা চাই এই ধর্ষকদের দ্রুত বিচার করা হোক। আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমরা তাদের ফাঁসি চাই। শিক্ষার্থীরা বলেন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে কয়েকজন মিলে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ধর্ষণ চেষ্টা করা হয়েছে, সিলেট এমসি কলেজ হোস্টেলে দুর্বৃত্তদের দ্বারা স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় আজ আমরা লজ্জিত পুরো দেশবাসী লজ্জিত। শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আমরা জানি এসব কারা করছে। এসব ঘটনায় অনেক দলীয় নেতাদের নাম উঠে আসছে। দলীয় পরিচয়ে তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই এসব ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার করা হোক। শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ধর্ষণসহ সকল নারী নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণের মতো ঘটনার অপরাধীদের আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমাদের সকলের দাবি সারাদেশে ধর্ষণ নির্যাতনে জরিত সকলকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত সকলের উপযুক্ত শাস্তি না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে শিক্ষার্থীরা শহরের বড়মাঠ থেকে একটি মৌন মিছিল বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও রাস্তা অবরোধ করে। এছাড়া প্রগতিশীল ছাত্র জনতার আয়োজনে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় শহরের চৌরাস্তায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচী পালিত হয়েছে। উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা জেএসডির ও ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক রেজয়ানুল হক রিজু, তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ রক্ষার জেলা আহবায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম রুবেল, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির সদর উপজেলা সভাপতি আহসানুল হক বাবু, উদীচীর সহ-সভাপতি এমএস আহম্মেদ রাজু, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমুখ।

ঝালকাঠিতে হামলাকারীকে গ্রেফতারের দাবীতে থানায় অবস্থান ধর্মঘট করেছে স্বর্ণকিশোরী সারা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥ প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় গত ২ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঝালকাঠির স্বর্ণ কিশোরী খেতাবপ্রাপ্ত কলেজ ছাত্রী নাসরিন আক্তার সারার ওপর হামলা করেছে যুবায়ের আদনান নামের এক যুবক। ঐ দিনই ঝালকাঠি সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছে কলেজ ছাত্রী সারা। কিন্তু ঘটনার ১ সপ্তাহ অতিবাহিত হতে চললেও আসামীকে খুজে পাচ্ছেনা পুলিশ। হামলা ঘটনার বিচার এবং আসামী গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝালকাঠি সদর থানা চত্বরে অবস্থান ধর্মঘট করেছে কলেজ ছাত্রী সারা। ‘নারী নির্যাতনে মিমাংসা নয়, বিচার চাই’ এই শ্লোগান সম্বলিত প্লাকার্ড হাতে নিয়ে প্রায় ঘন্টাব্যাপী অবস্থানের পর পুলিশের পক্ষ থেকে সদর থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা এস আই ফিরোজ আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে আসামী যুবায়ের’কে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে সারা থানা থেকে বাসায় চলে যায়। এসময় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে না ঘুরে যদি আত্মহত্যা করলেও এই হামলার বিচার পাওয়া যায় তাতেও প্রস্তুত রয়েছে সারা। এমনটাই সাংবাদিকদেরকে বলেছে। এসময় সারা’র বড় বোন আখিনুর বেগম বলেন, যুবায়ের আদনান আমার ঘরে ঢুকে আমার ছোট্ট ছোট্ট দুটি বাচ্চার সামনে সারা’কে যেভাবে মেরেছে তাতে আমার বাচ্চা দুটিও ভয়ে মানসিক ভাবে টর্চার হয়েছে। আমি আমার বোনের উপর হামলাকারীর দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার চাই। সারা’র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুল বলেন, আমরা তথ্য প্রযুক্তি ব্যাবহার করে আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছি। এ মামলার আসামী যুবায়ের আদনানের বাবা ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের মসজিদের ঈমাম জাকির হোসেন বলেন, সারা নামের মেয়েটি আমার ছেলের সাথে সম্পর্ক সৃষ্টিকরে বিয়ের কথা বলে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমি সে ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে আমি নিজে বাদি হয়ে ঝালকাঠি আদালতে একটি নালিশি মামলা দ্বয়ের করেছি। যাহার তদন্ত চলমান। ##

Recent Posts